মূল্যবোধ! মূল্যেবোধ শব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত।মূল্যবোধ এমন একটি মানবিক গুণ যার কারণে আমরা একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে ভালো -মন্দের বিচার বিবেচনা যথার্থ ভাবে করতে পারি।

যুগ যুগ থেকে মূল্যবোধ শিক্ষার প্রথা চলে আসছে। আমরা মানুষ সাধারণত সমাজ ও নানান জায়গা যেমনঃ পরিবার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,বন্ধু- বান্ধব,দেশ-সমাজের নানান মাধ্যম থেকে মূল্যবোধের শিক্ষা নিয়ে থাকি।কেউ কেউ মূল্যবোধের যথার্থ শিক্ষা লাভ করে জীবন চলার পথে এর সুষ্ঠু প্রয়োগ করে থাকে।

এখন আসছি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথায় যাদের মাঝেও মূল্যবোধ জাগ্রত করা সম্ভব বিভিন্ন উপায়ে।আমাদের জীবন চলার পথে মূল্যবোধের জ্ঞান থাকাটা অনেক জরুরী।পরিবার,কাছের মানুষদের কাছ থেকে আমরা মূল্যবোধের শিক্ষাটা পেয়ে থাকি,যা সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পক্ষে অনেকটা দুর্লভ।কেননা পারিবারিক যে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাটা নেওয়া উচিত সেখান থেকে এসব শিশুরা বঞ্চিত থাকে। আর এই শিশুদের মাঝে মূল্যবোধের সঠিক ধারণা জাগ্রত করতে পারে তাদের আশেপাশে অবস্থান করা মানুষজন।এসব শিশুরা মূলত তাদের মৌলিক অধিকারের নানান দিক সমূহ থেকে বঞ্চিত থাকে।ফলে তাদের মাঝে মূল্যবোধ জাগ্রত করা অনেকটা কষ্টসাধ্য।প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে মূল্যবোধের প্রথম বিকাশ ঘটাতে হবে।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে মূল্যবোধের যথাযথ জ্ঞান দেওয়া প্রত্যেক মানুষের সামাজিক মূল্যবোধের আওতায় পড়ে থাকে। বর্তমানে ছোট বড় নানান ধরনের অপরাধ হয়ে থাকে মূলত মূল্যবোধের অনুপস্থিতির কারণেই।আর এর উৎপত্তি হয়ে থাকে দারিদ্রতার মাধ্যমে। যেহেতু সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা তাদের মৌলিক যে চাহিদা পূরণ হওয়া দরকার সেটা থেকেই অনেকটা দূরে থাকে তাদের ভেতরে মূল্যবোধের গুরুত্ব খুব একটা কাজ করবে না যতোক্ষণ পর্যন্ত তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে। তাই একজন মানুষ হিসেবে আশেপাশের সকল মানুষের মাঝে মূল্যবোধের বীজ বপন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব আর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে থাকে। এসব শিশুদেরকে বুঝিয়ে বলতে হবে আমাদের পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা,অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দর করে দেখিয়ে দিতে হবে চলার পরে মূল্যবোধের যথার্থতা কতোটুকু যুক্তি সঙ্গত।

ইতিমধ্যে আমাদের দেশে সরকারি বেসরকারি নানা প্রকল্প চালু হয়েছে।খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষার মতো প্রকল্পের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে মৌলিক শিক্ষার জ্ঞান দানের মাধ্যমে তাদের ভেতরকার মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো আজ এসব কাজে নানান ভাবে নিয়োজিত থাকছে।তাদের নিঃস্বার্থ পদক্ষেপগুলো প্রতিনিয়ত পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এসব শিশুদের সঠিক পথে নিয়ে আসার জন্য। আমাদেরকে যে যার স্থান হতে এগিয়ে আসতে হবে, সাধ্যমতো পাশে এসে দাঁড়াতে হবে এসব স্বেচ্ছাসেবী দলের সাথে।

সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের মাঝে যদি মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে তারা এক সময় নিজেরাই নিজেদের মৌলিক অধিকার, শিক্ষালাভের ধরণ,বিবেকের উন্মোচনের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে সক্ষম হবে।নানান প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও এসব শিশুদের মাঝে মূল্যবোধের বিকাশ ঘটার কারণে তখন তারা নিজেরাই সেসব পরিস্থিতি থেকে বেড়িয়ে আসার হাজারো নতুন পথ খুঁজে পাবে। মূল্যবোধের সঠিক জ্ঞান লাভের পর এসব শিশুরা ভবিষ্যতে সমাজের নানান কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হতে পারবে,শক্তিশালী সামাজিক জোট তৈরী হবে। কেননা, আমরাই পারি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে মূল্যবোধ জাগ্রত করে সম্ভাবনার নতুন দ্বাড় খুলতে,নতুন করে। যার শুরুটা করতে হবে নিজেদের মূল্যবোধকে জাগ্রত করার ভেতর থেকে।

-নওশিন রহমান